বহির্বাণিজ্য

চীনে পণ্যের মান সনদ ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না করলে শূন্য শুল্কের সুবিধা কাজে আসবে না

চীনা আমদানি মানেই খারাপ এমনটি নয়। পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস ও হালকা প্রকৌশল শিল্প এখনো চীনা কাঁচামাল আর যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। আসল প্রশ্ন আমদানির পরিমাণ নয়। প্রশ্ন হলো, এ আমদানি দেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে, নাকি শুধু ভোগ আর বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উঠলেই সবার আগে আসে বড় বড় প্রকল্প, ঋণ আর ভূরাজনীতির প্রসঙ্গ। কিন্তু বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে প্রশ্নটা আসলে সহজ: এ সম্পর্ক থেকে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হচ্ছে? আমরা কি শুধু চীনা পণ্যের বড় বাজার হয়ে থাকছি, নাকি চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বিশাল বাজারকে কাজে লাগিয়ে নিজের শিল্প গড়ে তুলতে এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে পারছি?

এজন্য পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার পণ্য। বিপরীতে চীনে রফতানি হয়েছে মাত্র প্রায় ৬৫৭ হাজার কোটি টাকার পণ্য। সহজ কথায়, আমদানি রফতানির প্রায় ৩৭ গুণ। এ বিশাল ফারাক শুধু বাণিজ্য ঘাটতির গল্প নয়। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনো কতটা অসম তার নির্দেশক।

সহজভাবে বললে বাংলাদেশ চীনে ১ টাকার পণ্য রফতানি করলে এর বিপরীতে আমদানি করে প্রায় ৩৭ টাকার পণ্য। দীর্ঘমেয়াদে এমন বৈষম্য কোনো দেশের অর্থনীতির জন্যই স্বস্তিদায়ক নয়, তাই বাণিজ্য সম্পর্ক তুঙ্গে আছে বলে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই, বরং এখনই ভাবতে হবে, আমদানীকৃত পণ্য ও প্রযুক্তি কীভাবে দেশীয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রফতানি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে লাগানো যায়। দক্ষিণ কোরিয়া ঠিক এ চিন্তা থেকেই নিজেকে একটি শিল্পোন্নত রফতানিমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের কথাই ধরা যাক। চীনও একসময় বিদেশী বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নিজের শিল্প ভিত্তি গড়ে তোলে। আজ তা বিশ্বের অন্যতম প্রধান রফতানি শক্তি। অন্যরা পারলে আমরাও পারব। এজন্য চাই উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রচেষ্টার সম্মিলন।

চীনা আমদানি মানেই খারাপ এমনটি নয়। পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস ও হালকা প্রকৌশল শিল্প এখনো চীনা কাঁচামাল আর যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। আসল প্রশ্ন আমদানির পরিমাণ নয়। প্রশ্ন হলো, এ আমদানি দেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে, নাকি শুধু ভোগ আর বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাড়াচ্ছে। তাই সামগ্রিকভাবে আমদানি কমানোর বদলে, পণ্য ধরে ধরে যাচাই করা দরকার যে কোনটা কাজে লাগছে, আর কোনটা শুধু চাপ বাড়াচ্ছে।

এটা বললে ভুল হবে যে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের সহযোগিতাই নেই, বরং বেশকিছু চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি এরই মধ্যে হয়ে গেছে। ২০২৪ সালে সম্পর্ক আরো উঁচু পর্যায়ে ওঠে। ২০২৬ সালের জুনে যৌথ ঘোষণায় বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প সরবরাহ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। চীন বাংলাদেশের প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল আর মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের কাজও এগোচ্ছে। এর আগে আম রফতানির পথ খুলেছে। আর পাট-চামড়া-মাছেও আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বাংলাদেশকে চীনের বড় বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে ঢোকা, বিনিয়োগ ও নীতিগত আলোচনার একটা ভিত্তি এরই মধ্যে তৈরি হয়ে আছে। তবে কাগুজে সুযোগ থাকলেই রফতানি বাড়বে না।

শুল্ক শূন্য হলেও পণ্যের মান সনদ, চীনা ভাষায় লেভেল, ভালো প্যাকেজিং, স্থানীয় পরিবেশক আর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সেই সুযোগ কাগজেই থেকে যায়। একইভাবে কোনো চুক্তিতে ‘প্রযুক্তি সহযোগিতা’র কথা লেখা থাকলেই প্রযুক্তিগত উপকরণ ও সেবা মেলে না। এর জন্য দরকার স্পষ্ট শর্ত, দক্ষ জনবল আর বাস্তবায়নের নিয়মিত তদারকি। অর্থাৎ সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর আসলে কতটুকু এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হলো, তা উভয় পক্ষের যৌথ বৈঠকে নিয়মিত যাচাই করা জরুরি এবং এর অগ্রগতিও দেশবাসীকে জানাতে হবে।

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে একজন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর ও একজন ইকোনমিক কাউন্সেলর কাজ করেন। অর্থাৎ ন্যূনতম কাঠামোটা আছে। কিন্তু চীনের বিশালতার তুলনায় এ কাঠামো একেবারেই অপ্রতুল। চীনকে সর্বত্র একই ধরনের পণ্যের বাজার ভাবা ঠিক নয়। দেশটি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের একগুচ্ছ আলাদা বাজারের সমষ্টি। গুয়াংডংয়ের শিল্পবাজার, সাংহাইয়ের আর্থিক কেন্দ্র, ঝেজিয়াংয়ের ই-কমার্স নেটওয়ার্ক এবং ইউনানের কৃষিবাজার—প্রতিটির চাহিদা ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। এ ভিন্ন ভিন্ন বাজারের জন্য আলাদা লোকবল আর পরিকল্পনা দরকার, যা এখনো স্পষ্ট নয়।

এমন বাস্তবতায় আসলে কী করা উচিত? এ বাস্তবতা মাথায় রেখে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে কেন্দ্র করে একটি ‘রফতানি ও শিল্প সহযোগিতা সেল’ গঠন করা যেতে পারে, যার কাজ পাঁচ ধাপে সাজানো যায়।

প্রথমত, অগ্রাধিকার ঠিক করা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ। ২০-২৫টি পণ্য আর আট থেকে ১০টি সম্ভাবনাময় শিল্প বেছে নিয়ে প্রতিটির জন্য প্রদেশভিত্তিক হালনাগাদ বাজার তথ্য তৈরি করতে হবে। কোথায় চাহিদা বেশি, প্রতিযোগী কারা, কী মান সনদ লাগবে, সম্ভাব্য ক্রেতা-পরিবেশক কারা এগুলো তথ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক পণ্য বা কৌশল বেছে নেয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, ক্রেতা খোঁজা। বছরে দু-একটা মেলায় অংশ নেয়ার বদলে নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য চীনা আমদানিকারক আর সুপারমার্কেটের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করা দরকার। সাফল্য মাপা উচিত কতজন নতুন ক্রেতা যুক্ত হলো আর কত ডলারের অর্ডার এল তা দিয়ে, কতগুলো বৈঠক হলো তা দিয়ে নয়।

তৃতীয়ত, নানা বাধা দূর করা। কৃষি ও খাদ্যপণ্যের জন্য চীনা স্বাস্থ্য সনদ, অনুমোদিত বাগান, পরীক্ষাগার স্বীকৃতি—এসব নিয়ে স্থায়ীভাবে কাজ করতে হবে। শুধু ঘোষণা দিয়ে থেমে গেলে চলবে না। চতুর্থত, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। নতুন বাজারে ঢুকতে টাকা লাগে। নমুনা তৈরি, ব্র্যান্ডিং, মান সনদ, গুদাম, এসব খরচ ছোট ব্যবসায়ীর একার পক্ষে সামলানো কঠিন। তাই সহজ শর্তে ঋণ আর রফতানি বীমার ব্যবস্থা দরকার। পঞ্চমত, বিনিয়োগকে রফতানির সঙ্গে জুড়ে দেয়া। চীনা কোম্পানি শুধু বাংলাদেশের নিজের বাজারে বিক্রির জন্য কারখানা করলে ঘাটতি কমবে না। বিনিয়োগ অনুমোদনের সময় শর্ত থাকা উচিত যে স্থানীয় লোক নিয়োগ, প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার আর উৎপাদনের একাংশ তৃতীয় দেশে রফতানি করা হবে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। বিশ্বজুড়ে গাড়ির বাজার জ্বালানিচালিত থেকে বৈদ্যুতিকের দিকে সরছে। আর বাংলাদেশেও জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমানোর তাগিদেও এর চাহিদা বাড়ছে। পূর্ণাঙ্গ ইভি কারখানা দেশে এখনো তৈরি হয়নি। তবে এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। চীনের বিওয়াইডি ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে গাড়ি বিক্রি করছে। অন্যদিকে রানার অটোমোবাইলসের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভালুকায় সংযোজন ও রঙ করার কারখানা করে প্রায় এক বছরের মধ্যে বাজারে আনার লক্ষ্য জানানো হয়েছে। এখন দরকার ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে চীনা অংশীদার খোঁজা, দেশীয় প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ ও চার্জিং অবকাঠামো গড়া, যাতে বাংলাদেশ শুধু বাজার না হয়ে ধীরে ধীরে উৎপাদন কেন্দ্রেও পরিণত হয়।

পণ্যের পাশাপাশি সেবা রফতানির কথাও ভাবা দরকার। সফটওয়্যার, নকশা, হিসাবরক্ষণ, ডিজিটাল বিপণনের মতো খাতে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারে। তবে তার জন্য চাই মান্দারিন ভাষা জানা জনবল আর তথ্য সুরক্ষার আন্তর্জাতিক মান। কুনমিং, গুয়াংজু বা সাংহাইয়ের মতো শহরে একটা যৌথ গুদাম আর প্রদর্শনী কেন্দ্র থাকলে ছোট উদ্যোক্তারাও সহজে চীনা বাজারে ঢুকতে পারবেন। এর পাশাপাশি চীন থেকে যেসব যন্ত্রাংশ বা মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি হয়, তার একটা তালিকা করা দরকার। সেগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোনগুলো ধাপে ধাপে দেশেই তৈরি করা সম্ভব। এসব পণ্যের জন্য চীনা প্রযুক্তি অংশীদার খুঁজে যৌথ কারখানা গড়ে তোলা গেলে একই সঙ্গে আমদানি কমবে আর রফতানিও বাড়বে।

প্রযুক্তি স্থানান্তর, কথার কথা যেন না থাকে, সেজন্য একে মাপার মতো করে তৈরি করতে হবে। কতজন বাংলাদেশী প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ পেলেন, কতগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান চীনা কারখানার সরবরাহকারী হলো, কোন প্রযুক্তি দেশেই রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে—এসব সংখ্যা বিনিয়োগ চুক্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকা দরকার। শুধু যন্ত্রপাতি আমদানি করাকে প্রযুক্তি স্থানান্তর বলা যায় না।

এ পুরো কাজ একা দূতাবাসের পক্ষে করা সম্ভব না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসটিআই, কৃষি ও মৎস্য অধিদপ্তর আর বেসরকারি খাতকে এক জায়গায় এনে একটা স্থায়ী বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও শিল্প টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার। এতে শুধু বেইজিংয়ের দূতাবাস নয়, কুনমিং আর হংকংয়ের বাংলাদেশ মিশনকেও নির্দিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়ে একই তথ্য ব্যবস্থায় যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে সবাই একসঙ্গে, একই তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে।

এ কাজগুলো করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আমাদের কাছে নেই। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এত দিন রফতানিতে যেসব বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেত, সেগুলো ধীরে ধীরে কমে আসবে। তার মানে, এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষ সুবিধার ওপর আর বেশিদিন ভরসা করা যাবে না। তাই সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। ছোট ও মাঝারি শিল্প যাতে হঠাৎ প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দরকার যথেষ্ট রূপান্তরকাল, সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা, আমদানি হঠাৎ বেড়ে গেলে সুরক্ষার ব্যবস্থা আর মান সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি। এসব নিশ্চিত না করে শুধু শুল্ক কমানোর চুক্তি করলে তা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সবশেষে দরকার একটা সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা। এটির নাম দেয়া যেতে পারে ‘বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য পুনর্ভারসাম্য ও শিল্পায়ন কর্মপরিকল্পনা’। এতে থাকবে পাঁচ বছরের পণ্যভিত্তিক রফতানি লক্ষ্য, বিনিয়োগ থেকে কতটা দেশীয় মূল্য যোগ হচ্ছে, কতজনের কর্মসংস্থান হচ্ছে আর প্রযুক্তি স্থানান্তর কতদূর এগোচ্ছে এসবের হিসাব। এ তথ্য যদি একটা উন্মুক্ত ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়, তাহলে সবাই দেখতে পাবে সফর আর সমঝোতাগুলো আসলে বাস্তবে কতটা ফল দিচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, কোনো দেশ শুধু সদিচ্ছা থেকে অন্য দেশকে শিল্পায়নে সাহায্য করে না। প্রতিটি দেশ নিজের বাজার, শিল্প আর কর্মসংস্থানের স্বার্থ দেখে, চীনও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই বাংলাদেশকেও নিজের বাজার, শ্রমশক্তি আর ভৌগোলিক অবস্থানের দাম বুঝে দক্ষতার সঙ্গে দরকষাকষি করতে হবে। এখানে লক্ষ্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা নয়, বরং সম্পর্কটাকে অন্যভাবে গড়ে তোলা। লক্ষ্য হওয়া উচিত ধীরে ধীরে চীনা পণ্যের বাজার থেকে চীনা বিনিয়োগের উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে ওঠা, চীনা প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারকারী হয়ে ওঠা। এর বাইরে চীনা বাজারেই একজন প্রতিযোগী রফতানিকারক হিসেবে দাঁড়ানো। এ তিনটি জায়গায় বাংলাদেশ যত এগোবে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক তত বেশি করে দুই পক্ষের জন্য সত্যিকারের লাভজনক অংশীদারত্বে রূপ নেবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ: কানাডা প্রবাসী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক

আরও